Xiaomi Redmi 9A এর বিস্তারিত

কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালোই আছেন। আজকে চলে এসেছি শাওমি রেডমি সিরিজের অন্য একটি ফোন Redmi 9A. আমার সর্বশেষ পোষ্ট ছিলো Redmi 9C নিয়ে। তো রেডমি ৯সি আর ৯এ এর মধ্যে তেমন আহামরি কোন পার্থক্য নেই বললেই চলে, তবুও চলুন শুরু করা যাক আজকের আলোচনা।

বডি এবং নেটওয়ার্ক

এই ফোনের বডি ডাইমেনশন হচ্ছে 164.9 x 77.1 x 9 mm। এর ওজন হচ্ছে ১৯৬গ্রাম। ফোনটি প্লাস্টিক বিল্ড। এবং এর কোন প্রটেকশন আছে কিনা তাও জানা নেই। এর বডি পুরোটাই শাওমি রেডমি ৯সি এর মতো।

এবং এতে আছে ডুয়াল সিম স্লট। যার ফলে আপনি একই সাথে দুইটা ন্যানো সিম ব্যবহার করতে পারবেন। এবং দুটি সিমেই এক সাথে ৪জি ব্যবহার করা যাবে। যার নেটওয়ার্ক টাইপ গুলো হল GSM/HSPA/LTE।

ডিসপ্লে

Redmi 9A তে ব্যবহৃত হয়েছে আইপিএস ডিসপ্লে। যার সাইজ হচ্ছে ৬.৫৩ইঞ্চি। বলে রাখা ভালো এর স্ক্রিন টু বডি রেশিও হচ্ছে ৮১.০%। এবং এই ডিসপ্লে এর রেজুলেশন হচ্ছে ৭২০*১৬০০ পিক্সেল। এর পিক্সেল ডেনসিটি হচ্ছে ২৯৬ পিপিয়াই. যার ফলে আশা করা যায় বাজেট অনুযায়ী আপনি ভালোই ভিউ পাবেন সবকিছুর। কন্টেন্ট ওয়াচিং এর এক্সপিরিয়েন্ট ততটা ভালো না হলেও মানিয়ে নেয়া যাবে। এর ব্রাইটনেস বাড়ানো যাবে ৪০০নিটস পর্যন্ত।

চিপসেট এবং প্ল্যাটফর্ম

আগেই যেহেতু বলে দিয়েছিলাম যে Redmi 9A একদম ৯সি এর ভাই। তো Redmi 9A তে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক-এর ১২ ন্যানোমিটারের গেমিং প্রসেসর Helio G35। যদিও এওটি দিয়ে লাইট গেমিং একদম আরামসে করতে পারবেন, কিন্তু হেভী গেমিং করতে গেলেই ল্যাগের দেখা পাবেন। কিন্তু এই প্রসেসর দ্বারা আপনি ডেইলি ইউজ এর জন্য সব সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারবেন। কারন এই প্রসেসর খুব সহজেই এইসব অ্যাাপ্লিকেশন হ্যান্ডেল করতে পারে।

ক্যামেরা

Redmi 9A তে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তা হলো এখানে মেইন ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সিঙ্গেল ১৩মেগাপিক্সেলের ওয়াইড ক্যামেরা। কিন্তু ৯সি তে ব্যবহার করা হয়েছিলো ট্রিপল ক্যামেরা।

এবং ফ্রন্ট ক্যামেরাতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড ক্যামেরা। পিছন এবং ফ্রন্ট দুই ক্যামেরা দিয়েই ৩০এফপিএসে ১০৮০পিতে ভিডিও করা যাবে।

মেমোরী

এই ফোনের র‍্যাম হিসেবে থাকছে ২/৩জিবি, আর ইন্টার্নাল স্টোরেজ হসেবে থাকছে ৩২জিবি। যা কিনা আপনি একস্টার্নাল মেমোরী দিয়ে স্টোরেজ বাড়াতে পারবেন।

ব্যাটারী

এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫০০০ মিলি এ্যাম্পিয়ার লিথিয়াম পলিমার এর এক হিউজ ব্যাটারী। যা কিনা ১০ওয়াটের ফাস্ট চার্জ সাপোর্টেড। একবার চার্জ এ নরমাল ব্যবহারে পুরো ১-২দিন ব্যাকাপ পেয়ে যাবেন আশা করি। আর হালকা গেইমিং করলেও একদিনের মতো ব্যাকাপ পাবেন।

সাউন্ড, কানেক্টিভিটি এবং ফিচার্স

এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে লাউডস্পিকার এবং ৩.৫এমএম অডিও জ্যাক। যার কারনে আপনি যেকোন ইয়ারফোন/হেডফোন ব্যবহার করতে পারবেন কোন ঝামেলা ছাড়াই। আর ওয়াই-ফাই হিসেবে থাকছে ডুয়াল ব্যান্ড। যার কারনে আপনি ৫গিগাহার্টজ ব্যান্ডের ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সুবিধাও নিতে পারবেন। এবং এতে ওটিজি ব্যবহার করা হয়েছে। বিল্ট-ইন এফএম রেডিও রয়েছে, সাথে জিপিএস। এবং টাইপ-সি পোর্ট। এবং এক্সট্রা ফিচার্স হিসেবে আছে accelerometer, gyro, proximity, compass সেন্সর সমূহ। কিন্তু এতে নেই কোন ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।

 

তো দেখতেই পেলেন যে এই ফোনে ক্যামেরা আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এর পার্থক্য ছাড়া তেমন কিছুই চোখে পড়ে নি। তো এই ফোনটি কাদের জন্য? ওয়েল যারা সারাদিন ইউটিউবিং, ফেসবুকিং, আর নামে মাত্র ফটো তুলেন ফোনটি কেবল তাদের জন্যই। কারন এই ফোনের আসল কারনই হচ্ছে ডেইলি ইউজের জন্য।

যাইহোক কোন কিছু জানতে চাইলে কমেন্ট করতে পারেন। অথবা ফেসবুকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন টেক রিলেটেড যেকোন কিছু জানাত জন্য।

আমার অন্য ফোনের আর্টিকেল পড়তে চাইলে ক্লিক করুন।

আমাকে ফেসবুকে ফলো করতে চাইলে ক্লিক করুন এখানে।

ভালো থাকবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here