Xiaomi Mi Note 10 Lite একটি ফ্লাগশিপ কিলার নাকি মিড বাজেট ফোন?

হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশা করি ভালোই আছেন। তো হ্যা চলে এসেছি আজকে Xiaomi Mi সিরিজের বাজেট  কিলার Xiaomi Mi Note 10 Lite রিভিউ নিয়ে। আজকে এই ফোনটি দামের অনুযায়ী কতটুকু পার্ফেক্ট তা নিয়েই আলোচনা করবো।  তো চলুন শুরু করা যাক আজকে জার্নি-

বডি এবং নেটওয়ার্ক

এই ফোনের ডাইমেনশন হচ্ছে 157.8 x 74.2 x 9.7 mm (6.21 x 2.92 x 0.38 in)।  ২০৪গ্রাম ওজনের এই ফোন গ্লাস বিল্ডের। এবং ফ্রেমটি অ্যাালুমিনিয়াম এর। এর সামনে পিছনে ব্যবহার করা হয়েছে গরিলা গ্লাস প্রটেকশন ৫। অর্থাৎ প্রিমিয়াম নিয়ে কোন কথাই থাকবে না। মেটাল এবং গ্লাস কম্বিনেশন হওয়ার কারনে হাতে নিলে আলাদা ফিল পাওয়া যাবে। এবং প্রটেকশন নিয়েও কোন চিন্তা করাও লাগবে না।

এতে আছে ডুয়াল ন্যানো সিম। অর্থাৎ ইন টাইম আপনি ৪জি ব্যবহার করতে পারবেন। যার নেটওয়ার্ক টাইপ হলো GSM/HSPA/LTE/5G. অর্থাৎ এই ফোনটি ৫জি সাপোর্টেড।

ডিসপ্লে

Xiaomi Mi Note 10 Lite এ ব্যবহার করা হছে এমোলেড ডিসপ্লে। ফ্লাগশিপ কিলার হিসেবে এর ডিপ্লে এটাই দিবে আশা করেছিলাম। ৬.৪৭ ইঞ্চির বিশার সাইজের ডিস্প্লের রেজুলেশন হচ্ছে ১০৮০*২৩৪০ পিক্সেল। এবং এর স্ক্রিন টি বডি রেশিও হচ্ছে ৮৭.৮%। ৩৯৮পিপিয়াই এই ডিসপ্লে টে কন্টেন্ট ভিউয়ে আপনি কোন সমস্যার ফেস করবেন না তা আমি বলতে পারি। এবং এর ব্রাইটনেস হবে ৪৩০নিটস পর্যন্ত। এমোলেড প্যানেলে কন্টেন্ট ওয়াচিং করে যে মজা পাওয়া যায় তা আর বলা লাগব? আবার এতে HDr10 এনাবল করা, যার কারনে স্টিং হবে এবার বাধাহীন।

চিপসেট এবং প্ল্যাটফর্ম

শাওমি মি ১০ লাইট এ ব্যবহার করা হয়েছে স্ন্যাপড্রাগনের ৫জি প্রসেসর ৭৩০জি(৮ন্যানো)

এবং ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাান্ড্রয়েড ১০ বেইসড MIUI 11. শাওমির ইউয়াই মানেই এডে ভর্তি একটা ব্যাপার। কিন্তু কিছু হলেও ছাড় দিতে হয় তাইন?

ক্যামেরা

এবার আসা যাক এর এই ফ্লাগশিপ কিলার এর ক্যামেরা সেকশনে । এর পিছনের ক্যামেরা ৪টি ক্যামেরা নিয়ে গঠিত। ৬৪মেগাপিক্সেলের Sony IMX 686 sensor সমৃদ্ব ওয়াইড ক্যামেরা এবং ৮মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা , ২মেগাপিক্সেল এর ম্যাক্রো ক্যামেরা এবং সর্বশেষ ৫মেগাপিক্সেলের ডেপথ ক্যামেরা। মোষ্ট ইম্পর্টেন্ট ক্যামেরাগুলো থাকায় এতে ফটোগ্রাফি করা যাবে প্রফেশনাল ভাবে। একেকটা ছবি যেন জীবন্ত হয়ে উঠবে। এতে ভিডিও করা যাবে 4K@30fps, 1080p@30/60/120fps, 720p@960fps, gyro-EIS ।

ফ্রন্টে ক্যামেরা পজিশন খুব সুন্দর। যা দেখতেও অনেক কুল লাগে। ডিসপ্লে এর মাঝে খুব সুন্দর ভাবেই বসানো হয়ে ১৬মেগাপিক্সলের ওয়াইড ক্যামেরা । ভিডিও করা যাবে ১০৮০পি তে।

মেমোরী

এই ফোনের র‍্যাম হিসেবে থাকছে ৬জিবি,এবং ৮জিবির দুটি ভ্যারিয়েন্ট। এবং ইন্টার্নাল স্টরেজ হিসেবে আছে ৬৪/১২৮জিবি UFS ২.১ । বাড়াতে পারবেন না স্টরেজ। কারন এর জন্য স্লট নেই।

ব্যাটারী

শাওমি রেডমি নোট ৯প্রো ম্যাক্স এ ব্যবহার করা হইয়েছে ৫২৬০mAh এর জায়ান্ট ব্যাটারী। যাতে সাপর্ট করে ৩৩ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং। যার দরুন ব্যাকাপ পাবেন অনন্য।

সাউন্ড, কানেক্টিভিটি এবং ফিচার্স

এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে 24-bit/192kHz audio লাউড স্পিকার। আছে ৩.৫এমএম জ্যাক । অর্থাৎ এতে আপনি টাইপ সি ইয়ারফোন এবং ওয়ারলেস ইয়ারফোন ব্যবহার করতে পারবেন। সাথে ৩.৫এমএম এর কোন ইয়ারফোন ব্যবহার করতে পারবেন.

এতে আছে ডুয়াল ব্যান্ড সাপর্টেড ওয়াই-ফাই। ফলে ২.৪গিগা এবং ৫গিগা দুটই ব্যবহার করতে পারবেন আপনি। আছে ব্লুটুথ ৫.০, এনএফসি , ইউএসবি ২.১ এবং ওটিজি।

এর সিকিউরিটিতে থাকছে আন্ডার ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। এবং থাকছে accelerometer, gyro, proximity, compass।

তো এই এই ফোনে যা যা ফিচার আসে সব দেখেই বলা যায় আসলেই এটি একটি মোটামোটি মানে ফ্লাগশিপ  কিলার ফোন।  যেদিকে পারফরমেন্স অন্যদিকে এর লুক। হাতে নিলে মানুষ তাকাতে বাধ্য হবেই হবে।  এই ব্যাটারী এবং প্রসেসর এর কম্বিনেশনে আপনি পুরো ২দিন ব্যাকাপ পাবেন নরমাল ইউজে। কিন্তু হেভি গেমিং করলে ১দিনের কাছাকাছি SOT পাবেন বলে মনে করি। ছবিও তুলতে পারবেন প্রানবন্ত।

Midnight Black, Glacier White, Nebula Purple এই তিনটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে এই ফোনটি। বাংলাদেশে এর ৮+১২৮জিবি ভ্যারিয়েন্টি পাওয়া যাচ্ছে ৩৯৯৯৯ টাকায় অফিসিয়ালি।

তো আপনি একে মিড বাজেট কিলার ফোন বলবেন? নাকি ফ্লাগশিপ কিলার ফোন বলবেন? কমেন্ট করে জানাতে পারবেন।

যাইহোক কোন কিছু জানতে চাইলে কমেন্ট করতে পারেন। অথবা ফেসবুকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন টেক রিলেটেড যেকোন কিছু জানাত জন্য।

Symphony Z30 এর বিস্তারিত পড়তে চাইলে ক্লিক করুন।

আমাকে ফেসবুকে ফলো করতে চাইলে ক্লিক করুন এখানে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here