Samsung Galaxy M30s এর কতকথা

হ্যালো বন্ধুরা? কেমন আছেন সবাই? আজকে আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছি সামসাং মিড সিরিজের ৪র্থ পর্বে। আজকে আমি আলোচনা করবো Samsung Galaxy M30s এই স্মার্টফোনটি নিয়ে। মিড বাজেটে অনেকগুলো ফোন রিলিজ করেছে সামসাং, এম-৩০এস অন্যতম একটি ফোন। তো চলুন শুরু করা যাক-

বডি এবং নেটওয়ার্ক

Samsung Galaxy M30s এই ফোনের বডি ডাইমেনশন হচ্ছে 159 x 75.1 x 8.9 mm. ১৮৮ গ্রাম ওজনের এই ফোনটি পুরোটাই প্লাস্টিক বিল্ডের। অনেকের কাছে এই ওজনটাও অনেক বেশী বলে মনে হতে পারে। এর  সামনে আছে গরিলা গ্লাস প্রটেকশন। আর পিছন এবং ফ্রেম প্লাস্টিকের।  বলে রাখা ভালো কোন গরিলা গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে তা কিন্তু বলা হয় নি অফিসিয়ালভাবে। মিড বাজেটে সবগুলো ফোনেই সামসাং প্লাস্টিক বিল্ড দিয়ে আসছে। এইটাতেও সেইম।

এতে আছে ডুয়াল ন্যানো সিম। অর্থাৎ ইন টাইম আপনি ৪জি ব্যবহার করতে পারবেন।

ডিসপ্লে

এই মিড বাজেটের ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে সুপার এমোলেড প্লাস ডিসপ্লে। যদিও আহামরি কোন পার্থক্য নেই । ৬.৪ ইঞ্চি এই ডিসপ্লে ৮৪.২% জায়গা দখল করে রেখেছে এই ফোনের। বেজেললেস এই ডিসপ্লের রেজুলেশন হচ্ছে ১০৮০*২৩৪০ , যার ডেনসিটি হচ্ছে ৪০৩পিপিয়াই। কন্টেট ভিউ করেন আর ব্রাউজিং করেন, চোখে অন্যরকমের শান্তি পাবেন। এ৫১ আর এ৭১ এবং এম৩১ এর ডিসপ্লে তে আপনি খালি চোখে কোন ডিফরেন্স পাবেন না। এমোলেড ফ্যানদের জন্য তো এটা সোনায় সোহাগা ব্যাপার। ভালো খবর হচ্ছে এই ফোনে ব্রাইটনেস বাড়াতে পারবেন ৪২০নিটস পর্যন্ত। অর্থাৎ পুরো রোদের মধ্যেও ডিসপ্লে দেখতে কোন প্রবলেম ফেইস করবেন না।

চিপসেট এবং প্ল্যাটফর্ম

M31 এই ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে সামসাং-এর নিজস্ব চিপসেট এক্সিনোস ৯৬১১(১০ন্যানো) প্রসেসর। এবং এর ওএস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাান্ড্রয়েড ৯ বেইসড One UI। অনেকেই এখানে স্ন্যাপড্রাগন নেই দেখে নাক ছিটকাবে, নাক ছিটকানোর কোন কারন নেই। মিড বাজেট ফোনগুলোতে সামসাং তাদের এই চিপ্সেট ব্যবহার করে আসছে। যদি স্ন্যাপড্রাগন চিপ ব্যবহার করতো তবে মার্কেটে আরো দাপিয়ে বেড়াতে পারতো।

ক্যামেরা

পিছনে ৩টি ক্যামেরা নিয়ে রেয়ার প্যানেল তৈরী করা হয়েছে। প্রাইমারীতে থাকছে ৪৮মেগা এর ওয়াইড ক্যামেরা। আল্ট্রা ওয়াইড হিসেবে থাকছে ৮মেগাপিক্সলে। ডিপথে থাকছে ৫মেগাপিক্সেল করে। সামসাং এই ফোনে ব্যবহার করেনি  কোন ম্যাক্রো সেন্সর। যদিও এইটা তেমন কিছু না। বেশিরভাগ মানুষেই ম্যাক্রো দিয়ে ফোটে দুলে থাকেন না। আশা করি এই ক্যামেরা সেটাপ নিয়েও কেউ অসুন্তষ্ট থাকবেন না

ফ্রন্ট ক্যামেরাতে আছে ১৬মেগাপিক্সেল এর এক ক্যামেরা । সারপ্রাইজিং ব্যাপার হচ্ছে ই ফোন দিয়ে আপনি 4K ভিডিও করতে পারবেন। ১০৮০পি ভিডিও করতে পারবেন ৩০এফপিএসে।

মেমোরী

এই ফোনের র‍্যাম হিসেবে থাকছে ৬/৮জবি, এবং ইন্টার্নাল স্টোরেজ হিসেবে থাকছে ৬৪/১২৮জিবি। ডেডিকেটেড স্লট দিয়ে বাড়াতে পারবেন স্টোরেজ। থাকছে UFS 2.1 ফিচার।

ব্যাটারী

Samsung Galaxy M30s এ আছে 6000 mAh এর মস্ত পাওয়াফুল ব্যাটারী। ঠিক যেমন এম৩১ এ ছিলো এই জায়ান্ট ব্যাটারী। এই ব্যাটারি দিয়ে নরমাল ইউজে ২-৩দিন ব্যাকাপ পাবেন। মানে বুঝতে পারছেন? একবার চার্জে ৩দিন। হেভী মাল্টি-টাস্কিং করেও চার্জ শেষ করতে পারবেন না। এটা ১৫ওয়াটের ফাস্ট চার্জ সাপোর্ট করে। কিন্তু এই চার্জার দিয়ে চার্জ দিতে ২-৩ঘন্টা লেগে যাওয়া কথা।

সাউন্ড, কানেক্টিভিটি এবং ফিচার্স

এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে লাউডস্পিকার এবং ৩.৫এমএম অডিও জ্যাক। যার কারনে আপনি যেকোন ইয়ারফোন/হেডফোন ব্যবহার করতে পারবেন কোন ঝামেলা ছাড়াই। আর ওয়াই-ফাই হিসেবে থাকছে ডুয়াল ব্যান্ড। যার কারনে আপনি ৫গিগাহার্টজ ব্যান্ডের ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সুবিধাও নিতে পারবেন। এবং এতে ওটিজি ব্যবহার করা হয়েছে। নেই বিল্ট-ইন এফএম রেডিও, সাথে জিপিএস। এবং টাইপ-সি পোর্ট। এবং এক্সট্রা ফিচার্স হিসেবে আছে accelerometer, gyro, proximity, compass সেন্সর সমূহ। এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর আছে পিছন থেকে, এজ ইউজু্ইয়াল যেমন থাকে।

যারা একবার চার্জ দিয়ে ৩দিন ব্যাকাপ পেতে চান, তাদের জন্য অবশ্যই এই ফোন। সাথে গেমিং, মাল্টি টাস্কিং, ফটোগ্রাফি সবই করতে পারবেন এই ফোন দিয়ে, এবং তা নিঃচিন্তে এবং অনায়াসেই। প্রফেশনাল লেভেলের ফটোগ্রাফিও করতে পারবেন আরামসেই, যদিও ম্যাক্রো এর শুন্যতা ফিল করবেন। বাজেট ফ্রেন্ডলি এই ফোন সবার কাছেই পারফর্মেন্সের দিকে পিছিয়ে থাকবে না আশাকরি।

Opal Black, Sapphire Blue, Pearl White তিনটি কালার ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে এই ফোনটি।

যাইহোক কোন কিছু জানতে চাইলে কমেন্ট করতে পারেন। অথবা ফেসবুকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন টেক রিলেটেড যেকোন কিছু জানাত জন্য।

M31 এর বিস্তারিত পড়তে চাইলে ক্লিক করুন।

মাকে ফেসবুকে ফলো করতে চাইলে ক্লিক করুন এখানে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here