কুরবানি পশুর চামড়া সম্পর্কিত প্রশ্ন ও তার উত্তর।

আমরা জারা কুরবানি করি, আমাদের পশুর চামরা গুলি বিক্রি করে দেই কিন্তু আমাদের চামড়া বিক্রির অথবা চামরা নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকে কিন্তু আমরা এই ব্যাপারে অনেক কিছুই জানেনা, তাই আজকে কুরবানি পশুর চামড়া সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করবো।

১। প্রশ্নঃ মসজিদের কমিটি বা মুতাওয়াল্লি কুরবানীর চামড়া স্বল্প মূল্যে ক্রয় করে বেশী দামে বিক্রি করে এবং তার লাভ মসজিদের উন্নয়নে ব্যয় করে। এদিকে মহল্লাবাসী ও মসজিদের খাতিরে তাঁর নিকট কমদামে বিক্রি করে থাকে। এই হীলা জায়েয হবে কিনা?

উত্তর এখানে বিশেষ ভাবে লক্ষ্যনীয় যে কুরবানীর চামড়া ধনী হোক কিংবা গরীব যাকেই দিবে তাকে মালিক বানিয়ে আকামে কুরবানী * ২১ দিতে হবে। চাই সেটা বেচা-বিত্রি হিসেবে হোক বা হেবা-হাদিয়ার সূত্রে হোক। অতঃপর দ্বিতীয় ব্যক্তির উপর তা বিক্রিত টাকা ছদকা করা বা মসজিদের কাজে ব্যয় করা যরুরী নয় বরং তাঁর নিজ ইচ্ছামতে খরচ করবে। এখানে প্রশ্নের আলোকে বুঝা যায়-এলাকাবাসী তার নিকট চামড়া বিক্রি করলেও তাকে সেই স্বাধীনতা দেয়নি। বরং মসজিদের কাজে ব্যয় করার জন্যই তার নিকট কমদামে বিক্রি করা হয়েছে। সুতরাং সেটা জায়েয হবে না। বরং ঐ ব্যক্তি কিনা দরের চেয়ে যা অতিরিক্ত লাভ হবে সে গুলো ছদকা করে দিবে। (আহসানুল ফাতাওয়া ৭/৫৩০)

আরও পড়ুনঃ যদি কুরবানির পশুর পেটের বাচ্চা থাকে তাহলে কি করতে হবে?

২। প্রশ্ন ও বিভিন্ন স্থানে মসজিদের মুতাওয়াল্লী/ ইমাম। ছাহেব বা নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে কুরবানীর চামড়া ফ্রি দিয়ে দেয় যেন সে এগুলাে মসজিদের কাজে ব্যয় করে। অনেক জায়গায় স্পষ্ট বলেও দেয়া হয়। এখন প্রশ্ন হলাে এই টাকা মসজিদের কাজে ব্যয় করা জায়েয হবে কিনা?

উত্তরঃ এখানে যেহেতু পরােক্ষ ভাবে দাতাগণের নিয়ত হচ্ছে- মসজিদে দান করা। তাই এটাও মসজিদের কাজে লাগানাে যাবে না। (আঃ ফঃ ৭/৫৩০)।

কুরবানীর পশুর হাঁড়, লােম, ইত্যাদি বিক্রি করা জায়েয নেই। বিক্রি করলে তার মূল্য ছদকা করে দিতে হবে। (আহসানুল ফঃ ৭/৫০৩)।

কুরবানীর পশু জবাই এর পূর্বে দুধ, কেশ ইত্যাদি নিজে ব্যবহার করা জায়েয হবেনা। দুধ দোহন করলে সেটা ছদকা করে দিতে হবে। (আলমগীরী, রহীমিয়া-২/৮২)

আপনি যদি এরকম ব্লগ সাইট অথবা যেই কোন ধরণের ওয়েবসাইট বানাইনিতে চান তাহলে এখানে ক্লিক করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here