যদি কুরবানির পশুর পেটের বাচ্চা থাকে তাহলে কি করতে হবে?

আসসালামু আলাইকুম। আমরা কুরবানির সময় অনেকে অনেক ধরণের পশু কিনে থাকি যেমন কেউ গরু, ছাগ, ভেড়া, উঠ ইত্যাদি… কিন্তু অনেক সময় স্ত্রী লিঙ্গ গরু কিনার পরে জবাই করার পর পেটে বাচ্চা থাকে। তাই আজকে আলোচনা করবো কুরবানির পশুর পেটের বাচ্চা থাকে তাহলে কি করতে হবে?

  • জবাইকৃত পশুর পেটের ভিতরের বাচ্চা যদি মৃত হয় তাহলে তা খাওয়া হারাম। (আ:ফা: ৭/৪০৯,শামী ৬/৩২৫)।
  • পেটের ভিতর বাচ্চা যদি জীবিত হয় এবং বাচ্চার গঠন পূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে তা জবাই করে খাওয়া জায়েয হবে। (হিদায়া ৪/৪২৮)
  • এ বাচ্চা যদি পালন করার মত হয় তাহলে জবাই না করে বাচ্চাটা পালন করা ভাল।
  • তবে এ বাচ্চাটি যদি কুরবানীর পশুর বাচ্চা হয় তাহলে লালন পালনের মাধ্যমে জীবিত থাকলে পরে তা ছদকা করে দিতে হবে। এ বাচ্চা দিয়ে আগামী বৎসর কুরবানী করা বা নিজের জন্য রাখা যাবেনা। মাছআলা কুরবানীর জন্তুর বাচ্চা জন্ম হওয়ার পর কুরবানীর দিনগুলুতে যদি জবেহ না করা হয় তাহলে পরে জীবিত সদকা করে দিতে হবে।كما في الشامية : فان خرج من بطنها حيا فالأمر أنه يفعل به مايفعل بالأم فان لم يذبحه حتى مضت أيام النحر فيصدق به۳۲۲ حيا ج۱ ص
  • মাছআলাঃ কেউ যদি কুরবানীর পশুর বাচ্চা লালন-পালন করে বিক্রি করে দেয় অথবা জবাই করে গোস্ত খেয়ে নেয়, অথবা তার হাত থেকে হারিয়ে যায় অথবা মরে যায় তাহলে তাকে ঐ বাচ্চার মূল্য ছদকা করে দিতে হবে। (ফতওয়া শামীতে বর্ণিত,فان ضاع أوذبحه أوأكله يتصدق بقيمته(শামী-৬/৩২২)
  • কুরবানীর পশুর চামড়া, হাঁড়, চুল, দুধ ইত্যাদি | * কুরবানীর পশুর চামড়া নিজে ব্যবহার করতে পারবে এবং অন্যকেও হাদিয়া বা দান করতে পারবে। কিন্তু বিক্রি করা যাবেনা। বিক্রি করলে বিক্রিত টাকা গরীব, মিসকীনদেরকে দান করে দিতে হবে। (আহসানুল ফঃ ৭/৪৮৬)
  • কুরবানীর পশুর চামড়া দ্বারা মাদ্রাসা স্থাপন করা, মসজিদ, মক্তব, পোল ইত্যাদি জনকল্যান মুখী কাজ সমাধা করা জায়েয হবেনা। চাই সেটা কোন সংস্থার মাধ্যমে হোক কিংবা ব্যক্তিগত ভাবে। (ফঃ রহীমিয়্যাহ-৯/৩১৫ ফঃ মাহমূদিয়া-৪/৩১২ আহসানুল ফঃ৭/৪৯৫)

আরও পড়ুনঃ কিভাবে পশু জবাই করতে হবে সম্পর্কীয় খুব গুরত্ব পূর্ন মাসআলা।

  • এতীম, অসহায়, গরীব ছাত্রদের লিখাপড়া ও খাওয়া ইত্যাদিতে খরচ করা জায়েয। সুতরাং লিল্লাহ বোডিং ও মাদ্রাসার গোরাবা ফান্ডে কুরবানীর চামড়া বা তা বিক্রিত পয়সা দান করা জায়েয। (আহসানুল ফাঃ- ৭/৪৯৫–৭/৪৮৯)।
  • কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রিত টাকা যাকাত, ফিত্রা খেতে পারে এমন ব্যক্তিকে দিতে হবে। (মাহমূদিয়া ৪/৩১৩)
  • যদি কেউ জেনে শুনে এমন ব্যক্তিকে চামড়ার টাকা দান করল যার জন্য যাকাত খাওয়া জায়েয নেই, তাহলে ঐ ব্যক্তি এপরিমাণ টাকা ছদকা করে দিতে হবে। (আঃ ফাঃ ৭/৫৩২)।
  • কুরবানীর পশুর চামড়া গোস্তের ন্যায় ধনী, গরীব, মুসলিম, অমুসলিম সবাইকে দেয়া জায়েয। কিন্তু চামড়ার বিক্রিত টাকা একমাত্র গরীব মিসকীনকেই দিতে হবে। (আলমগীরী -৫/৩০০ আহসানুল ফঃ৭/৪৯৬)

আপনি যদি কম খরচে ওয়েবসাইট বানাতে চান তাহলে এখানে ক্লিক করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here