একজন আল্লাহর অলি খ্রিস্টান হওয়ার গল্প । (পার্ঠ-৫)

এইটি হচ্ছে আল্লাহর অলি খ্রিস্টান হওয়ার গল্প এর তৃতীয় পার্ব, আপনি যদি আগের পর্বগুলি না পরে থাকেন অর্থাৎ ১, ২, ৩ ও ৪ নং পর্ব যদি না পরে থাকেন তাহলে এই পোস্টের একেবারে নিচে সবগুলি পর্বের লিঙ্ক দেওয়া আছে আপনি চাইলে আগের পর্বগুলি পরে আসতে পারেন।

 ( গল্পের পার্ঠ-৫ )

দ্বিতীয় আয়াতটি হলো- যে ব্যক্তি ঈমানের পরিবর্তে কুফর অবলম্বন করে তবে সত্যিই সে ভ্রান্ত পথের পথিক। (সূরা বাকারা, আয়াতঃ ১০৮)

প্রশ্নকারী আবার প্রশ্ন করল- হযরত! আপনার ৩০ হাজার হাদীস সনদসহ মুখস্থ ছিল। এখন কোনো হাদীস মনে আছে কি?

উত্তরে শায়েখ বললেন, সবই ভুলে গেছি, তবে একটি হাদীস ভুলে যাইনি। তা হলো যে ব্যক্তি আপন ধর্ম ইসলামকে বাদ দিয়ে নতুন ধর্ম গ্রহণ করে তাকে কতল করে দাও। (তিরমিযী, ১মখন্ড, পৃষ্ঠাঃ ২৭০)

প্রিয় পাঠক! শায়েখের স্মরণে থাকা দুখানা আয়াত ও একখানা হাদীসের দিকে গভীরভাবে লক্ষ্য করলে বুঝা যায়, প্রকৃত প্রেমের তুষানলে তিলে তিলে বিদগ্ধ হচ্ছিলেন শায়েখ। আর বর্তমানে তিনি যা করছেন এটা তার অনাকাঙ্খিত। এ অবাঞ্চিত মেকী প্রেমে বাস্তবে তার অশান্তির কোনো শেষ ছিল না। তিনি প্রতি মুহূর্তে নিজেকে এখন অপরাধী মনে করছেন যা তার প্রতিটি কথা থেকেই বুঝা যাচ্ছে। কিন্তু কুদরতের লীলা খেলার উপর যেহেতু কারো কোনো হাত নেই, তাই এবারও ভক্তদেরকে পূর্বের ন্যায়। নিরাশ হয়ে ফিরে যেতে হলো।

ভক্তবৃন্দ এক পা দু’পা করে তিন মনযিল পথ অতিক্রম করেছে। এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে দু’দিন দু’রাত। তৃতীয় দিন তারা একটি জলাশয়ের নিকট তাবু ফেলল। বিষন্ন মনে বসে বসে ভাবতে লাগলো, হায়! দেশে ফিরে আমরা শত-সহস্র ভক্তকে কী জবাব দেব? কি বলে সান্ত্বনা দেব তাদেরকে? তারা তো বড় আশা নিয়ে আমাদের পথ চেয়ে আছে। কিন্তু। তাদের শ্রদ্ধা ভাজন সেই শায়েখকে তো নিয়ে যেতে পারলাম না।

আল্লাহর কী অপার মহিমা! কাফেলার লোকজন যখন বসে বসে এসব চিন্তা করছিল, ঠিক এমন সময় তারা দেখলেন একটি নদী থেকে গোসল সেরে শায়েখ এদিকে এগিয়ে আসছেন এবং উচ্চঃস্বরে পড়ছেন

আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু। ওয়া রাসূলুহু।

-আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

শায়েখের এ অবস্থা দেখে কাফেলার লোকজন কি পরিমাণ যে হয়েছিল তার অনুমান সেই করতে পারবে, যে ইতোপূর্বে তাদের অনুমান করতে পেরেছেন।

ভক্তরা জিজ্ঞেস করলো, হুজুর! আপনার এই পরীক্ষার পিছনে কোনো কারণ ছিল কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি যখন ঐ গ্রামে মর্তি ও ক্রোশপূজকদেরকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য বস্তুর পূজা করতে দেখলাম। তখন আমার মনে অহংকার আসল যে, তাদের চেয়ে আমরা কতই না ভালো। আমরা তাওহীদে বিশ্বাসী। ইবাদতের উপযুক্ত একমাত্র আল্লাহকেই মনে করি। আর ওরা কত বড় হতভাগা যে, সর্বদা নিজীর পদার্থের উপাসনায় বিভোর থাকে। কেন? ওরা কি এতটুকু বুঝে না যে। প্রাণহীন এসব জড় পদার্থ কোনো কিছু করারই ক্ষমতা রাখে না? এদের। বিবেক কি একবারও এ কথার সাড়া দেয় না? মোট কথা আমার এ সাতপাঁচ ভাবনা অহমিকা ও আত্মম্ভরিতার রূপ ধারণ করল। যা আল্লাহর কাছে। অত্যন্ত ঘৃণিত ও অপছন্দনীয় ছিল। ফলে সাথে সাথে অদৃশ্য থেকে আওয়াজ ভেসে এলো- হে আবু আব্দুল্লাহ! এই ঈমান ও তাওহীদ তোমার। সৌন্দর্য কিংবা বাহুবলে অর্জিত হয়নি। এগুলোর মধ্যে তোমার কর্তৃত্ব বলতে কিছুই নেই। এটা শুধু আমার অনুগ্রহ ও দয়ার ফল। আমার কৃপা দৃষ্টি তোমার প্রতি বর্ষিত না হলে এসবের কিছুই তুমি পেতে না। যদি তুমি বিশ্বাস না কর তবে এখনই এর প্রমাণ নাও।

বিঃ দ্রঃ এই পুরো একটি গল্পকে আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি আমি ৮ ভাগে এবং এই গল্পটির নাম আমি ব্যাক্তি গত ভাবে দিয়েছি একজন আল্লাহর অলি খ্রিস্টান হওয়ার গল্প । তাই আমি আপনাদেরকে অনুরদ করব যদি এই গল্পটি আপনার ভালো লেগেথেকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেন্নাহ।

এই অদৃশ্য আওয়াজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমি অনুভব করলাম, আমার হৃদয় চিড়ে প্রাণীর মতো কি যেন একটা উড়ে গেল। প্রকৃতপক্ষে এটাই ছিল আমার ঈমান। যা হোক এর পর কাফেলার লোকজন আপন শায়েখকে নিয়ে বাগদাদ অভিমুখে রওয়ানা দিল। এ সংবাদ পেয়ে কেবল আপামর জনসাধারণই নয়, বাদশাহ পর্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য এগিয়ে এলেন। সকলের। চেহারায় ফুটে উঠলো আনন্দের ঝলক। চোখের কোণ ভরে গেল অব্যক্ত আনন্দের আসুতে। শায়েখ পূর্ব কাজে মনোনিবেশ করলেন দ্বিগুণ উদ্যমের। সাথে। খুলে গেল সকল খানকার তালাবদ্ধ কক্ষগুলো। পুরোদমে শুরু। হলো, দর-তাদরীস, ওয়াজ-নসিহত ও আত্মশুদ্ধির যাবতীয় কার্যক্রম।

শায়েখ ফিরে পেলেন তার বিস্মৃত ইম। ভক্তবৃন্দের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে লাগল দ্রুত গতিতে। দেখতে দেখতে চল্লিশ হাজারের কোঠায় পৌছে গেল মুরীদানদের সংখ্যা।

অনেকদিন অতিবাহিত হলো। এর মধ্যে নতুন কোনো ঘটনার অবতারণা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ একদিন কাক ডাকা ভোরে শায়েখের দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শােনা গেল। দরজায় তখন হযরত শিবলী (র.) বসা ছিলেন। তিনি দরজা খুলে দেখলেন আগন্তুক একজন ভদ্র মহিলা। তার গোটা দেহ কালো কাপড়ে আবৃত। শিবলী (র.) জিজ্ঞেস করলেনআপনার পরিচয় কি? কোথেকে এসেছেন আপনি?

ভদ্র মহিলা বললেন, আপনার শায়েখকে বলুন, তার ফেলে আসা প্রেম কাহিনীর স্মৃতি বিজড়িত খ্রিষ্টান মেয়ে তার খেদমতে উপস্থিত। আর আমি। তার প্রেম ভিখারীনি- এটাই আমার পরিচয়।

এ সংবাদ শুনা মাত্রই শায়েখের দেহে কম্পন শুরু হলো। অতঃপর অতি কষ্টে নিজেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে এনে মহিলাকে ভিতরে আসার অনুমতি দিলেন। আগন্তুক দ্র মহিলা আবু আব্দুল্লাহ উন্দুলুসী (র.) কে দেখামাত্র তার দু’চোখ বেয়ে অশ্রুর বন্যা বইতে লাগল। কান্নার আওয়াজ গলার মধ্যে আটকে গেল। দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার উপক্রম হলো। শায়েখও তার অবস্থা দেখে হতবাক! ভাবছেন, দূর দূরান্তের দুর্গম মরুপ্রান্তর পেরিয়ে অচেনা এই শহরে তার আগমন কি করে সম্ভব হলো? তাও আবার এই কাক ডাকা ভোরে? নীরব উভয়ে। কারো মুখে কোনো কথা নেই। কিছুক্ষণ পর ভদ্র মহিলা একটু শান্ত হলে শায়েখই নীরবতা ভঙ্গ করে জিজ্ঞেস করলেন, কি খবর তোমার? কিভাবে এখানে এলে? কে সেই মহান ব্যক্তি যিনি তোমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে এসেছেন?

ভদ্র মহিলা বললেন, হে প্রাণাধিক প্রিয়তম! সেদিন যথাসময়ে আপনার ফিরে না আসায় আমি অস্থির হয়ে পড়ি। সময়ের তালে তালে সেই অস্থিরতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। শেষ পর্যন্ত খোঁজ নিয়ে যখন জানলাম, সত্যিই আমার মনের মানুষটি বিদায় নিয়ে চলে গেছেন, তখন আমার অস্থিরতা শতগুণে বৃদ্ধি পেল। শুরু হলো হৃদয়ে প্রলয়ংকরী ঝড়। যে ঝড় দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে গেল আমার অস্তিত্ব। (আরও পড়ুন, পার্ঠ-৪)


গল্পের প্রথম পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-১)

গল্পের দ্বিতীয় পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-২)

গল্পের তৃতীয় পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৩)

গল্পের চতুর্থ পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৪)

গল্পের পঞ্চম পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৫)

গল্পের ষষ্ঠ পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৬)

গল্পের সপ্তম পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৭)

গল্পের অষ্টম পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৮)

আমাদের সেবা উপভুগ করতে অথবা আমাদের সাথে থেকে অসহায় মানুষের পাশে দারাতে এখানে ক্লিক করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here