একজন আল্লাহর অলি খ্রিস্টান হওয়ার গল্প। (পার্ঠ-৩)

এইটি হচ্ছে আল্লাহর অলি খ্রিস্টান হওয়ার গল্প এর তৃতীয় পার্ব, আপনি যদি আগের পর্বগুলি না পরে থাকেন অর্থাৎ ১ ও ২ নং পর্ব যদি না পরে থাকেন তাহলে এই পোস্টের একেবারে নিচে সবগুলি পর্বের লিঙ্ক দেওয়া আছে আপনি চাইলে আগের পর্বগুলি পরে আসতে পারেন।

আপনি আপনার পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসুন। খ্রিস্টান সাদা চামড়া ওয়ালী মেয়ের রূপ-সৌন্দর্যের কথা ভুলে যান। কারণ খ্রিস্টানরা আল্লাহর দুশমন, নবীর দুশমন, সমস্ত মুসলমানের দুশমন। আপনি একটি খ্রিস্টান মেয়ের রূপ-লাবণ্যের ফাঁদে আটকা পড়েছেন। আমার ভয় হয়, ওর মোহে-মায়া আপনাকে কিনা ধর্মচ্যুত করে ছাড়ে।

আপনার জন্য পাগল কত মানব মানবী! ওর চেয়ে সুন্দরী নারী কি মুসলিম পরিবারে নেই? আছে, বহু আছে। এমন কোন্ বিশ্ব সুন্দরী আছে, যে। আপনার প্রণয় বন্ধনে আবদ্ধ হতে উৎসাহী নয়?

শায়েখ স্পেনিশ বললেন, হে আমার সন্তানেরা! আমার এবং তোমাদের মাঝে অদৃষ্টের লিখন প্রতিফলিত হতে চলেছে। বেলায়েত ও নৈকট্যের অমূল্য পােষাক আমার থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে হেদায়েতের সমুদয় চিহ্ন। আমি বিচ্ছিন্ন। আমি নিঃস্ব, নিরুপায়, অসহায়, একাকী। এ পর্যন্ত বলার পর শায়েখের গলা ধরে এলো। তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।

অনেক্ষণ পর বহু কষ্টে কান্না সংবরণ করে আবার বলতে লাগলেন- হে আমার সহচরবৃন্দ! যা কিছু ঘটছে, ঘটতে যাচ্ছে সবই কুদরতের লীলা খেলা। মহান প্রভুর সীমাহীন অভিমান ও ক্রোধের শিকার আমি। এখন আমি আর আমার ক্ষমতাধীন নই। সুতরাং আবারো বলছি, তোমরা ফিরে যাও। এ অপ্রত্যাশিত দুঃখজনক ঘটনায় ভক্ত মুরীদরা এমনিতেই কিংকর্তব্যবিমূঢ়।

তদুপরি শায়েখের অনাকাঙ্খিত বক্তব্যে তারা আরো ভেঙ্গে পড়লো। ঝরঝর করে ঝরতে লাগলো সকলের চোখের অশ্রু। শায়েখও কাঁদতে লাগলেন। চোখের পানিতে সকলের বুক ভেসে গেল। সিক্ত হলো উষর ভূমি। কেউ জমিনে গড়াগড়ি খেলো, কেউ পড়ে থাকলো অজ্ঞান অবস্থায়। কেউবা কাতর স্বরে আল্লাহর নিকট। দোয়া করে বলল- হে বিশ্ব প্রভু মহান আল্লাহ! তুমি আমাদের শায়েখকে হিদায়েত দান করো। ফিরিয়ে দাও তাকে পূর্ণ মর্যাদা।

আবার কেউ বা এ জগত থেকে বিদায় নিল মাত্রাহীন চিন্তা ও দুঃখে। মোট কথা সব মিলিয়ে সেখানে সৃষ্টি হলো এমন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের, যা ইতিপূর্বে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

অনেকক্ষণ পর বেহুশ সাথীদের জ্ঞান ফিরে এলে সবাই উঠে দাঁড়ালো, অতঃপর নিরাশ হয়ে ভগ্ন হৃদয় নিয়ে বাগদাদ অভিমুখে যাত্রা করল। কয়েকদিন চলার পর তারা যখন শহরের নিকটবর্তী এলাকায় পৌছল, তখন তাদেরকে অভ্যর্থনা জানানাের জন্য লোকজন পাগলপারা হয়ে ছুটে এলো। কিন্তু যাকে কেন্দ্র করে শহরময় এই উৎসাহের আমেজ, যার উদ্দেশ্যে বয়ে চলছে বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দের স্রোত, তাকে তো কাফেলার। সাথে দেখা যাচ্ছে না।

তবে কি তিনি আসেন নি?

সবার মনে তখন এই প্রশ্নটিই ঘুরপাক খাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আদ্যোপান্ত ঘটনা যখন শুনলো তখন সাথে সাথে সৃষ্টি হলো আরেকটি মর্মস্পর্শী দৃশ্যের। ভক্তবৃন্দের গগণ ফাটা চিৎকার ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হলো। বিকট চিৎকার দিয়ে আরো কয়েকজন প্রাণ হারালো।

বাকিরা ক্রন্দনরত অবস্থায় বিনীত প্রার্থনা করে বলল- হে দয়াময় প্রভু! তুমি আমাদের শায়েখকে সহজ সরল ও সঠিক পথের সন্ধান দাও। আবারো বেঁধে নাও তাকে আপন প্রেমের ডোরে। খোদা হে! এক সময়তো শায়েখ ছিলেন তোমারই প্রেমের।

দেওয়ানা। আমরা যে তোমার প্রেম সাধনার পথ পেয়েছি, সে তো তারই ঐকান্তিক চেষ্টার বদৌলতে। তাঁরই দীক্ষার ফলে আজ আমরা তোমার পথের পথিক। দু’হাত তুলে তোমার কাছে মোনাজাত করার তৌফিক যে তুমি দিয়েছে, সেতো তাঁরই মেহনতের ফসল। তাই তোমার শাহী দরবারে সবিনয় আরবী পেশ করছি আমাদের শায়েখকে ভ্রান্ত পথ থেকে ফিরিয়ে আন।

মুসলমানদের চিরশত্রু খ্রিস্টানদের কবল থেকে তাকে মুক্তি দাও। হে খোদা! আমাদের শায়েখই যদি পথভ্রষ্ট হয়ে যান তবে আমাদের অবস্থা কি হবে?

হে দয়ার সাগর! গাফুর ও গাফফার! শায়েখের প্রতি দয়া কর, দয়া কর এই পাপী তাপীদের প্রতিও।

আমরা আমাদের শায়েখকে আমাদের। পূর্বের অবস্থায় দেখতে চাই।।

মুনাজাত শেষে এক বুক দুঃখ নিয়ে সকলেই যার যার বাড়িতে ফিরে গেল। কিছু দিনের মধ্যে বিরান হয়ে গেল শায়েখের খানকাগুলো। কক্ষগুলোতে ঝুলতে লাগলো রং বেরংয়ের তালা। মুরীদানরা চলতে লাগলো যে যার মতো।

এভাবে চলতে থাকে অনেক সময়। দিন যায়, মাস যায়, বছর পেরোয়, কিন্তু এ পর্যন্ত শায়েখের কোনো সংবাদ নেওয়া হলো না। তাই ভক্তরা মিলে পরামর্শে বসল। সিদ্ধান্ত হলো ২/১ দিনের মধ্যেই একটি ছোট্ট কাফেলা শায়েখের সংবাদ নিতে যাবে।

যথাসময়ে নির্দিষ্ট জনপদে কাফেলা পৌছে গেল। গ্রামবাসীদের জিজ্ঞেস করে জানলো, শায়েখ ঐ চারণভূমিতে শুকর চরাচ্ছেন। এতদশ্রবণে তারা চমকে উঠে বলল, একি দুঃসংবাদ শুনালে তোমরা। সত্যিই কি তিনি চারণ ভূমিতে শুকর চরাচ্ছেন?

লোকেরা জবাবে বলল, হ্যা, তিনি পল্লী সরদারের একমাত্র কন্যাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে তিনি শর্ত সাপেক্ষে তা গ্রহণ করেছেন। শর্ত ছিল (১) খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করতে হবে (২) খ্রিস্টানদের রীতিনীতি পুরোপুরী মেনে চলতে হবে (৩) প্রতিদিন। চারণভূমিতে গিয়ে শুকর চরাতে হবে।

আপনাদের শায়েখ সবগুলো শর্ত অকপটে মেনে নিয়েছেন। ডুবে গেছেন পল্লী সর্দারের আদরের দুলালীর প্রেম সাগরে। বর্তমানে মুসলমানদের সামান্য চিহ্নও তার মধ্যে অবশিষ্ট নেই। তিনি আর এখন তোমাদের শায়েখ নন। তিনি এখন আমাদের চারণভূমির প্রধান রাখাল। যাও, ঐ চারণভূমিতে গিয়ে দেখ তিনি তোমাদের না আমাদের?

এ অনাকাঙ্খিত সংবাদে ভক্তবৃন্দের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় আকার ধারণ করল। মনের অজান্তেই গড়িয়ে পড়ল ফোটা ফোটা তপ্ত অশ্রু। হারিয়ে ফেলল নড়াচড়া করার ক্ষমতাটুকুও।

বিষন্নমন। ক্লান্ত দেহ।

এ অবস্থায়ই তারা চারণভূমির দিকে পা বাড়াল। এক পা দুপা করে হাঁটতে হাঁটতে এক সময় তারা যথাস্থানে পৌছে গেল। সেখানে গিয়ে শায়েখকে যে অবস্থায় তারা দেখতে পেল, তাতে কাটা ঘায়ে লবনের ছিটা লাগার মতো অবস্থা হলো।

তারা দেখল শায়েখের মাথায় খ্রিস্টানদের হ্যাট, কোমরে বাধা পৈতা। আর যে লাঠিতে। ভর করে ওয়াজ নসিহত ও খুতবা পাঠ করতেন, সেই লাঠির উপর ভর করে শুকর পালের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন রাখালের ভূমিকায়।

আগত ভক্তবৃন্দদের দেখে শায়েখ মাথা নীচু করলেন। তারা নিকটে পৌঁছে সালাম দিলে শায়েখ অতি নিম্ন স্বরে সালামের উত্তর দিলেন বটে, (আরও পড়ুন, পার্ঠ-৪)


গল্পের প্রথম পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-১)

গল্পের দ্বিতীয় পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-২)

গল্পের তৃতীয় পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৩)

গল্পের চতুর্থ পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৪)

গল্পের পঞ্চম পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৫)

গল্পের ষষ্ঠ পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৬)

গল্পের সপ্তম পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৭)

গল্পের অষ্টম পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৮)

আমাদের সেবা উপভুগ করতে অথবা আমাদের সাথে থেকে অসহায় মানুষের পাশে দারাতে এখানে ক্লিক করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here