একজন আল্লাহর অলি খ্রিস্টান হওয়ার গল্প।

এই গল্পটি অত্যান্ত জটিল এবং শিক্ষানিয় একটি গল্প যেই গল্পের মধ্যে ফুটে উঠেছে একজন মানুষ সামান্য একটু অহংকারের কারণে মানুষ কোথায় থেকে কোথায় চলে যেতে পারে! তাই এই গল্পের নাম করন করা হয়েছে একজন আল্লাহর অলি খ্রিস্টান হওয়ার গল্প।

 ( গল্পের পার্ঠ-১ )

হিজরী তৃতীয় শতক দুই দুই প্রায় । জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র তপন বাগদাদি । সেই বাগদাদের এক মহান সাধক আবু আব্দুল্লাহ উলুসী (র.)। তিনি ছিলেন। শায়খুল মাশায়েখ । আক্ষরিক বিদ্যায় তার দৃষ্টান্ত যেমন বিরল ছিল, তেমনি আধ্যাস্মিক জ্ঞানে তিনি ছিলেন যুগ শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তার ধী-শক্তি ছিল অসাধারণ । পবিত্র কুরআনের হাফেজ তো ছিলেনই বটে, বর্ণনাকারীদের নাম সহ ত্রিশ হাজার হাদীস তার মুখস্ত ছিল। তার কণ্ঠে ছিল মধুর আকর্ষণ।

তিনি সুললিত কণ্ঠে যখন পবিত্র কুরআন পাঠ করতেন, আবাল-বৃদ্ধি বণিতারা তখন তন্ময় হয়ে তা শ্রবণ করতো। তার এক একটি কথা, এক একটি ৰাণী মানৰ হৃদয় কেড়ে নিতো। আন্দোলিত হতো শ্রোতাদের দেহ-মন । ফলে তাদের হৃদয় সিংহাসনে স্থান পেত আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের অকৃত্রিম প্রেম, অফুরন্ত ভালবাসা।

বাগদাদের এই মহান বুযুর্গ আবু আব্দুল্লাহ উন্দুলুসী (র.)- এর আদি নিবাস স্পেনে। এজন্য তাকে শায়েখ স্পেনিশ বলে ডাকা হতো। তার উসিলায় গোটা ইরাকে আবাদ হয়েছিল হাজার হাজার খানকাহ, প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শত-সহস্র মসজিদ-মাদরাসা। তার ভক্ত-মুরীদের সংখ্যা ছিল বার হাজারেরও অধিক । তাঁর নূরাণী চেহারা, ফেরেশতা সুলভ আচরণ, অনুসরণীয় আমল-আখলাক যে কোনো দর্শককে মুগ্ধ করতো। মোটকথা, তৎকালীন সেই স্বর্ণযুগে শায়েখ স্পেনিশই ছিলেন বাগদাদ তথা গোটা ইরাকবাসীদের অন্যতম রাহনুমা- সরল পথ প্রদর্শনকারী।

কিন্তু এতকিছুর পরও বাগদাদের এই মহান তাপসের জীবনে অতিবাহিত হয়েছে এমন এক দুঃসময়, যা ভাবতে কেবল অবাকই লাগে, গা পর্যন্ত শিহরিয়ে উঠে, গন্ড বেয়ে মনের অজান্তেই গড়িয়ে পড়ে দু’ফোটা তপ্ত অশ্রু।

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা! তাহলে চলুন, আমরা এই মহান বুযুর্গের হৃদয়স্পর্শী কাহিনী ধৈর্য সহকারে শ্রবণ করি। সেই সাথে জেনে নেই, এই ঘটনার মূল কারণও। একদা আবু আব্দুল্লাহ উন্দুলুসী (র.) সফরে বেরুলেন।

সঙ্গে তার হাজার হাজার ভক্ত অনুরক্তের দল। যাদের মধ্যে হযরত জুনায়েদ বাগদাদী ও হযরত শিবলী (র.)- এর ন্যায় বড় বড় আলেম ও আধ্যাত্মিক সাধকগণ ছিলেন। সফরের উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ রাব্বল আলামীনের সৃষ্ট এই বিশাল পৃথিবী থেকে জ্ঞান আহরণ ও পথভােলা মানুষের মাঝে হিদায়েতের আলো বিতরণ।

আরও পড়ুনঃ ইবনে সিনা পুরো জীবনি (পার্ঠ-১)

স্থানে স্থানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে একটানা এগিয়ে চলছে বিশাল কাফেলা। সেই সাথে চলছে পরম প্রিয়তম মহান আল্লাহকে পাওয়ার চরম প্রতিযোগিতা। তাইতো দেখা যায়, রাত যত গভীর হয়, প্রভু প্রেমের খেলা ততই জমে উঠে। দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি সত্ত্বেও ভুলে যায় আরাম-দ্রিার কথা। ভুলে যায় স্বীয় অস্তিত্বকে।

কেউ যিকির-আযীফায় লিপ্ত হয়, কেউ নামাজে দাঁড়িয়ে যায়, আবার কেউ বা শাশ্বত বাণী কুরআনে পাক তিলাওয়াত করে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে।

এভাবে বেশ কিছুদিন চলার পর কাফেলা একটি বিশাল মরুপ্রান্তর অতিক্রম করলো। ইতিমধ্যে কোনো এক নামাজেরও সময় হলো। কিন্তু তখন কারো কাছেই ওজু করার মতো পানি ছিল না। ফলে সবাই পানির জন্য চিন্তিত হলো। ভাবলো, পানি না পেলে নামাজ না হয় তায়াম্মুম করে।

আদায় করলাম। কিন্তু খাওয়া ও অন্যান্য প্রয়োজন কিভাবে সারব? ইত্যবসরে দূরে দৃষ্টিগোচর হলো একট জনপদ। শায়েখের নির্দেশে সবাই জনপদের উদ্দেশ্যে দ্রুত পদে এগিয়ে চলল। সেখানে গিয়ে অনুসন্ধান করে পানি পাওয়া গেল। নামাজও আদায় হলো। কিন্তু পানির সন্ধানকালে যে দৃশ্য শায়েখের দৃষ্টিগোচর হলো, তাতে তার মনে আত্মঅহমিকার সৃষ্টি হলো। স্রষ্টাকে ভুলে সৃষ্টির পূজা-অর্চনায় লিপ্ত।

সেখানকার লোকদেরকে দেখে তিনি মনে মনে ভাবলেন- তাদের তুলনায় আমি কতই না উৎকৃষ্ট। তারা সৃষ্টির উপাসনা করে, আর আমি স্রষ্টার ইবাদত করি।

তারা সৃষ্টির প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা নিবেদন করে, আর আমি পরম প্রিয়তম মহান আল্লাহর প্রতি নিবেদন করি হৃদয়ের সমস্ত প্রেম ও ভালবাসা। সুতরাং তাদের চেয়ে আমি শতগুণে শ্রেষ্ঠ এতে কোনো সন্দেহ নেই। (আরও পড়ুন, পার্ট-২)


গল্পের প্রথম পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-১)

গল্পের দ্বিতীয় পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-২)

গল্পের তৃতীয় পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৩)

গল্পের চতুর্থ পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৪)

গল্পের পঞ্চম পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৫)

গল্পের ষষ্ঠ পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৬)

গল্পের সপ্তম পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৭)

গল্পের অষ্টম পার্ঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অর্থাৎ (পার্ঠ-৮)

আপনি যদি কোন ওয়েবসাইট বানাতে চান এখানে ক্লিক করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here